ফ্রীলেন্সার হয়ে তৈরি করুন নিজের আইটি ফার্ম – পার্ট ১

বর্তমানে আইটি ব্যাবসা অনেক জনপ্রিয় এবং আইটি বিষয়ক স্কিলস থাকলেই আপনি হতে পারেন একজন আইটি ফার্ম এর উদ্যোক্তা। এর জন্য আপনাকে কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার অথবা বি এস সি ইঞ্জিনিয়ার হতে হবেনা। কিন্তু আমাদের বাংলাদেশে কীভাবে আপনি আইটি ব্যাবসা শুরু করবেন তার কোনো প্রকার ভালো গাইডলাইন অথবা রিসোর্স নেই।

এখন কথায় আসি, আমি প্রথমেই কিছু গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট আপনাদের সামনে তুলে ধরবো যা ছাড়া আমার মনে হয় না আপনারা বেশীদিন কোনও ফার্ম টিকিয়ে রাখতে পারবেন। নিচে পয়েন্ট গুলো তুলে ধরছি যে বিষয়গুলো আপনাদেরকে বুঝাব।

আমি কাজগুলো ৫ টি পোস্টে বিভক্ত করব-

১) কীভাবে শুরু করবেন ফ্রীলেন্সিং এবং ফ্রীলেন্সিং এ কীভাবে কাজ করা উচিৎ ?

২) কীভাবে একটি টিম তৈরি করে অফিসিয়াল ফরমেটে কাজ করবেন ?

৩) কীভাবে একটি টিম মেনেজ করে ফ্রীলেন্সিং প্রজেক্টে কাজ করতে হয়?

৪) কীভাবে ক্লায়েন্ট বা মার্কেটপ্লেসে কাজ না করে নিজের টিম দিয়ে একটি অতিরিক্ত রয়্যালটি আয় করা যায়? যা আপনার অফিস এবং টিম এর খরচ হয়ে যাবে।

৫) কীভাবে অন্যান্য স্কিলস এর কাজ নিজের ফার্মে করাবেন এবং নিজের অফিসের জন্য একটি বড় ম্যানেজমেন্ট তৈরি করবেন ?
কীভাবে শুরু করবেন ফ্রীলেন্সিং এবং ফ্রীলেন্সিং এ কীভাবে কাজ করা উচিৎ ?

1. Learn any one kinds of IT related skill or service

শুরু করার প্রথমেই সমস্যা যে কী শিখবো? এবং কীভাবে শিখবো?

Google.com এবং ইউটিউব ইউটিউব শুনেছেন নাম? যদি না শুনে থাকেন তাহলে আমার অনুরুধ এই আর্টিকেল টি পড়বেন না কারণ এইটা আপনার জন্য না।

আমার পার্সোনাল রিসার্চ অনুযায়ী বর্তমানে পপুলার সার্ভিস গুলোর মধ্যে রয়েছে

১) Web programming or web design and development
২) WordPress development
৩) Graphics design
৪) Video editing
৫) Digital marketing
৬) App development

এই বিষয়গুলো বর্তমানে আইটি রিলেটেড সার্ভিস গুলোর মধ্যে জনপ্রিয়। এই বিষয়গুলোর উপর মার্কেটপ্লেস অথবা ফ্রিল্যান্সিং ক্ষেত্রে সব থেকে বেশী কাজ পাওয়া যায়।

2. Deeply analyze for good opportunity and Future for earn

১ মাস সময় নিয়ে সবগুলোতে কাজ শিখার চেষ্টা করুন। তারপর ভাবুন যে এই সার্ভিসগুলোর মধ্যে আপনি কোন কোনটি করে স্বাচ্ছন্দ্য এবং এন্টারটেইনমেন্ট মনে করেছেন। আপনার কাছে যে বিষয়টাতে কাজ করতে ভালো লাগবে ঠিক সেই বিষয়ের উপর শেখা শুরু করে দিন।

মনে রাখবেন, এই বিষয়গুলোর মধ্যে আপনি যদি একটি সার্ভিস নিয়ে কাজ করেন তখন অনেক টাইপের কাজ পাবেন এবং অনেক লেভেল থাকবে ওই একটি কাজের মধ্যে। মার্কেটপ্লেস এর মধ্যে সব থেকে সহজ কাজ করার জন্য কাজ শিখবেন না। তাহলে হয়তবা আয় করতে পারবেন কিন্তু টিম ওয়ার্ক বা আইটি ফার্ম দেওয়ার কোনো যোগ্যতাই আপনার থাকবেনা। তাই বিষয়টির উপর নিজের দক্ষতার লেভেল বৃদ্ধি করতে থাকুন। যাতে করে কোনো কাজে আপনার বায়ার এর জন্য অপেক্ষা করতে না হয় তাহলে ফার্মে কাজ করানোর জন্য কাজ পাবেন না। তাই একটি সার্ভিস এর সকল বিষয়ে দক্ষ হতে হবে।

কাজ শেখা হয়ে গেলে এইবার কাজে নামুন। প্রথমে ফ্রীতে কাজ করে দেওয়ার চেষ্টা করুন। নিজের দক্ষতা যাচাই করুন। আপনি যদি ফ্রীতে কারো কাজ করে দেন তাহলে মনে হয় না যে কেউ কাজ দিবেনা ?

তাই যেকোনো ফার্মে ফ্রী তে কাজ করে দিন। যদি ফার্মে জব না পেয়ে থাকেন তাহলে যেকোনো ফ্রিল্যান্সার এর কাজ থেকে কাজ নিন এবং তা ফ্রীতে করে দিন। এতে করে আপনার একটি রিলেশন বিল্ডআপ হবে এবং আপনি আরো সুবিধা পাবেন যা বোঝানো পসিবল না।

3. Work for 1 year minimum to understand clients need

ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসগুলোতে একাউন্ট করে কাজ নেওয়ার জন্য চেষ্টা করুন। যদি ফার্ম দেওয়ার ইচ্ছা থাকে তাহলে অবশ্যই মাল্টিপল মার্কেটপ্লেস এ একাউন্ট করার চেষ্টা করুন। তাতে করে আপনি কখনো কাজ ছাড়া থাকবেন না। ক্লায়েন্ট এর সাথে নুন্নতম ১ বছর কাজ করুন তাহলে বুঝতে পারবেন যে একটি সার্ভিস এর উপর ক্লায়েন্ট এর কী কী ডিমান্ড থাকে এবং আপনার টিম এর জন্য কী কী স্কিলস থাকা প্রয়োজন। কাজ শিখা এবং লাইভ কাজ করার মধ্যে আকাশ পাতাল তফাৎ।

কাজ পাওয়ার জন্য ছোট্ট টিপস:

১) যেকোনো তিনটি মার্কেটপ্লেস এ কাজ করার চেষ্টা করবেন।
২) মার্কেটপ্লেসগুলোতে একাউন্ট করেই মার্কেটপ্লেস এর নিয়ম কানুন সবকিছু জেনে নিন। এই কাজ টা অনেকেই করেনা তার কারণে বড় ভাই দের সাহায্য আর ধর্না দিতে হয়। আগে ভালো করে মার্কেটপ্লেস কাজ করার নিয়ম টা জেনে নিন।তাহলে দেখবেন কাজ পেতে ৫০% সহজ হয়ে যাবে।
৩) গুগোল অথবা ইউটিউবে ভিডিও দেখুন। এক্সপার্টদের এক্সপেরিয়েন্স পড়ুন। তাদের বিভিন্ন টিপস জোগাড় করুন তা কাজে লাগানোর চেষ্টা করুন।
৪) সোসিয়াল মিডিয়া তে নিজের দক্ষতা শেয়ার করুন এবং সোশাল নেটওয়ার্কিং তৈরি করে মার্কেটিং করুন।
৫) বার বার চেষ্টা করুন। কাজ পাবেন এবং নিজেকে শক্ত রাখুন যে আপনি পারবেন।

4. Join with a community for solve problems and ideas.

যেকোনো কমিউনিটি এবং ফোরাম গুলোতে অংশগ্রহণ করুন। প্রবলেম সলভ করার চেষ্টা করুন। দেখবেন আপনি প্রবলেম এ পরলে অন্য কেউ আপনাকে হেল্প করছে। বিভিন্ন এক্সপার্ট লোকদের সাথে কমিউনিকেশন বিল্ডআপ করুন। তাহলে অনেকটুকু কনফিডেন্ট বাড়বে এবং কাজ করতে ভালো লাগবে। কাজ করার সময় আমরা অনেক ঝামেলায় পরে থাকি এবং অনেক কিছুই গুগল বা ইউটিউব থেকে সমাধান করা যায় না। যদি আপনি কোনও ফোরাম বা কমিউনিটি তে অংশগ্রহন করে থাকেন তাহলে সকল ফোরাম বা কমিউনিটিতে অনেক এক্সপার্টরা থাকেন তাঁরা আপনার সমস্যার সমাধান করে দিতে পারবেন। অবশ্যই অন্যদের সমস্যার সমাধান জানা থাকলে টা সমাধান করে দিন।

About the Author

Leave a Reply